আমরা সবাই সঙ্গপ্রিয়। পরস্পর মিলেমিশে থাকার ফলেই আমাদের জীবন সুন্দর হয়। আর এই পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি থাকে সমবয়সীদের মধ্যে। কারণ সমবয়সীদের মধ্যে যেমন বয়সের মিল থাকে তেমনি মনেরও অনেক মিল থাকে। যাদের মধ্যে মনের মিল বেশি তাদের মধ্যেই সৃষ্টি হয় বন্ধুত্বের। বন্ধুদের

সাথে আমরা মনের ভাব আদান-প্রদান করি। তাই যাদের আচরণ ভালো, অন্যের ক্ষতি করে না, নিয়ম মেনে চলে, বিনয়ী, সহানুভূতিশীল ও সহমর্মিতাবোধ আছে, বন্ধু হিসেবে তারাই উত্তম। এছাড়া বন্ধু নির্বাচনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস থাকা।
রাসেল ও মিলন সহপাঠী ও ভালো বন্ধু। অন্যান্য সহপাঠী সবাই তাদের পছন্দ করে। তারা পড়াশোনা ও খেলাধুলায় সেরা। পড়াশোনায় তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে তবে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ নেই, আছে আত্মবিশ্বাস। স্কুলে দুই ফুটবল টিমে তারা খেলে। তারা দু'জনেই আদর্শ নিয়ে চলে। কাজে কর্মে ধৈর্যশীল, অন্যের কষ্টে সহানুভূতি দেখায় ও সাধ্যমতো সাহায্য করে। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাদের এই সমস্ত গুণের জন্য সহপাঠী এবং দলের সবাই তাদের প্রতি মুগ্ধ। একদিন মিলনের দল খেলায় পরাজিত হয়। দলের অনেকেই এটা মেনে নিতে পারছে না। মিলন দলের সবাইকে নিয়ে নিজেদের দুর্বলতা, খেলার নিয়ম-নীতি নিয়ে আলোচনা করে। ফলে সবাই পরাজয় মেনে নেয়। মিলনের বিচক্ষণতাই সকলের আগ্রাসী মনোভাব দমন করে। রাসেল ও মিলনদের ক্লাসে এমন কিছু ছেলে ছিল যারা কলহপ্রিয় ও মারামারি করতে পছন্দ করে। ওরা দুই বন্ধু ঠিক করল ওদেরকে দলে খেলতে নিবে। তারা দুষ্ট ছেলেদের দুই দলে ভাগ করে নিল। খেলার নিয়ম-নীতি, শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দিলো।
এভাবে কিছুদিন খেলার ফলে দেখা গেল দুষ্টু ছেলেদের মন মানসিকতার অনেক উন্নতি হলো।
দেখতে পারছ তোমাদের বয়সে বন্ধুর প্রভাব অনেক বেশি। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় কৈশোর বয়সে এমন অনেক চাহিদা থাকে যা মা-বাবা, শিক্ষক পূরণ করতে পারে না। সে সকল ক্ষেত্রে সমবয়সী বন্ধু অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
| কাজ-১ : সমবয়সীদের সাথে আচরণ এ বিষয়ে তোমার নিজস্ব মতামত লিপিবদ্ধ করো। |
ছোটদের প্রতি দায়িত্ব- তোমরা ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তোমাদের স্কুলে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেকেই আছে, যারা তোমাদের চেয়ে বয়সে ছোট। তাদের প্রতি তোমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।
- তোমরা ছোটদের স্নেহ ও ভালোবাসা দিবে।
- ভালো কাজের উপদেশ দিবে।
- মন্দ কাজ করতে নিষেধ করবে এবং মন্দ কাজের কুফল বুঝিয়ে বলবে।
- তাদের মধ্যে ন্যায়-অন্যায় বোধ ও আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করার চেষ্টা করবে।
- তাদেরকে প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে। তবে তোমাদেরও ছোটদের সামনে ভালো কাজের দৃষ্টান্ত রাখতে হবে। যা দেখে ছোটরা তোমাদের অনুসরণ করবে। কারণ ছোটরা সব সময় বড়দের অনুকরণ করে শেখে।
দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী নিপা মাঠে খেলতে যেয়ে পায়ে ব্যথা পেয়ে কাঁদতে থাকে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মালতি ও তার বান্ধবীরা নিপাকে কোলে তুলে শিক্ষকদের রুমে নিয়ে যায়, বরফ এনে পায়ে ধরে, বাতাস করে, রুমাল ভিজিয়ে তার মুখ মুছিয়ে দেয়। এতে আস্তে আস্তে নিপা সুস্থ হয়ে ওঠে। বড় আপুদের যত্ন স্নেহ, ভালোবাসা ও সহানুভূতি নিপাকে মুগ্ধ করে।
মালতি দেখল ছোট একটি ছেলে কলা খেয়ে খোসাটি রাস্তায় ফেলল। মালতি ছেলেটিকে ডেকে তার নাম জিজ্ঞাসা করল এবং খোসাটি ডাস্টবিনে ফেলতে বলল। কলার খোসায় পা পিছলে পড়ে কেউ ব্যথা পেতে পারে, এছাড়া যেখানে সেখানে ময়লা ফেললে পরিবেশ নোংরা হয়। ছেলেটি মালতির কথা বুঝতে পারল এবং আর কখনও এমন করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করল।

কাজ-২ নিপা ও মালতির কাছ থেকে তুমি কী শিখলে বলো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মৌটুসী তার বন্ধুদলে মিলে বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলা করে। বন্ধুদের সাথে অনেক সময় কাটায়। সে রিভিন্ন রকম ভালো আচরণ শিখেছে তাদের কাছ থেকে।
Read more